• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ঝড়ে লন্ড ভন্ড নীলফামারী

সিসি নিউজ ।। দুই সপ্তাহ আগেই কাল বৈশাখী ঝড়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল নীলফামারী জেলার কয়েক হাজার মানুষ। আর সেই ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারো ঝড়ের কবলে নীলফামারীবাসী। বুধবার (১৮ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হয়ে প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী এ ঝড়ে পাঁচ শতাধিক ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। সহস্রাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে। শত শত হেক্টর উঠতি ইরি-বোরো খেতের ফসল নষ্ট হয়েছে। এছাড়া আম ও লিচুর ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক।

এদিকে ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় গোটা জেলায় প্রায় ১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। তবে ঝড়ে এখন পর্যন্ত কোথাও আহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হটাৎ এই ঝড়ে জেলা শহর সহ বিভিন্ন স্থানে উপড়ে ও ভেঙে পড়ে আছে বড় বড় গাছ। উপড়ে পড়া ও ভেঙ্গে যাওয়া গাছ অপসারণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। অনেকেই নিজ উদ্যোগে গাছ অপসারনে কাজ করছে। এদিকে কয়েক দিনের বৃষ্টির কারনে ফসলের জমিতে পানি জমলেও গত রাতের ঝড়ে ফসলের আরো ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

জেলা সদরের সংগলশী ইউনিয়নের কৃষক আজিজার রহমান জানান, বৃহস্পতিবার ধান কেটে ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। তবে গত রাতের ঝড়ে মাটিতে নুয়ে পড়েছে প্রায় ৩ বিঘা জমির ধান গাছ। শোয়ার ঘরের টিনের চালা প্রায় ৩০ ফুট উড়ে নিয়ে ধান খেতে মুখ থুপড়ে পড়ে রয়েছে। একই এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, রাতের ঝড়ে আমার চারটি ঘরের চালা উড়ে গেছে। ছেলে-মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে খোলা আকাশে রাত কাটিয়েছি।

ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান হেদায়েত আলী শাহ ফকির বলেন, ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডে কাঁচা ঘর-বাড়ি ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। গ্রামীণ সড়কের ধারে শতশত গাছ ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনে ওয়ার্ড সদস্যরা কাজ করছেন।

সৈয়দপুর ফাইলেরিয়া হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জিকো আহমেদ সিসি নিউজকে জানান, এখানে রাত ১২টার দিকে শুরু হয় ঝড়। ঝড়ে হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন দুটি গাছ উপড়ে পড়ে হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সটির ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় পাশে থাকা ব্যাক্তি মালিকানাধীন একটি কার চাপা পড়ে ভেঙ্গে যাওয়া গাছের চাপে।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ সহকারী পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ঘরে তোলার জন্য প্রস্তুত ফসলের জমিতে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে ছিল। আর গত রাতের ঝড়ে আরো ক্ষতি হওয়ার খবর পেয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ণয় করা যায়নি। তবে কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ